ঢাকা: প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।
শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মাঞ্জিল হায়দারকে চুল কাটা ও দাড়ি কামানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিচারক পুলিশের বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিচারক বলেন, চুল কাটা বা শেভ করার মতো বিষয় মৌলিক চাহিদার মধ্যে পড়ে। এ ধরনের বিষয়ে কেন আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন হবে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। খাওয়া-দাওয়া বা টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কি আদালতের নির্দেশ লাগবে—এমন প্রশ্নও করেন বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার পটভূমি
গত ৯ এপ্রিল রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাতেও তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, সরকারবিরোধী কার্যক্রম, ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার জন্য তাকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে পাল্টাপাল্টি যুক্তি
রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, আসামি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং আরও তথ্য সংগ্রহ প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিন আবেদন জানিয়ে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে।

0 মন্তব্যসমূহ