ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬১ নম্বর নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল এবং সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু তাহের তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট বাতিল, ফলাফল শিটে গড়মিল, ভোটগ্রহণে কৃত্রিম স্থবিরতা সৃষ্টি, জাল ভোট প্রদান এবং সূক্ষ্ম কারচুপি সংঘটিত হয়েছে।
তিনি বলেন, মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং–১০)-এ বিকাল ৩টার দিকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ বন্ধ করে বুথের বাইরে চলে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সীমিত সময়ের জন্য পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একই কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং–৭৯)-এ ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিএনপির এজেন্টকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়। অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং–১৪)-এ পরিকল্পিতভাবে ছয়টির পরিবর্তে চারটি বুথ স্থাপন করায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। এতে অনেক নারী ও বয়স্ক ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করা হয়।
মেঘশিমুল, দুধী, মনাকান্দা, কাপাসিয়া, কৈলাটী, বেড়াইল ও লেটিরকান্দা এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত ভোটারদের লাঠিচার্জ করে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৫৬৩। তবে বিএনপি প্রার্থীর দাবি, এসব অনিয়ম না হলে এই ব্যবধান অতিক্রম করে তাঁর বিজয় নিশ্চিত ছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বার্তা শিটে প্রদর্শিত ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের অসংগতি রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল শিটে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩৬১, অথচ পরবর্তীতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রকাশিত ফলাফলে তা ৩ হাজার ৩৪১ দেখানো হয়।
কিছু কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা মোট ভোটারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফলাফল স্থগিত রেখে সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মো. আবু তাহের তালুকদার বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আইনগত ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী’র নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছে।

0 মন্তব্যসমূহ