পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: ( মোঃ শাহিন খন্দকার ) পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজে ১০ মিটার জায়গা ঘিরে বেড়া দেওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে গেছে। এতে আশপাশের সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের ২ হাজার ৭০০ মিটার অংশের পাকাকরণ কাজ চলমান ছিল। বাকি অংশ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’ কাজটি পেলেও স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়ার তত্ত্বাবধানে কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গণকাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের একটি অংশে বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে পথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ইমান আলীর তিন ছেলে—মুমরুজ আলী, মফিজ মিয়া ও মজিবর মিয়া তাদের মালিকানাধীন প্রায় ১০ মিটার জমি দিয়ে সড়ক নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখানে বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে বাধা সৃষ্টি করেন। ফলে সড়কের কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি চানখলা, বাইক গণকাপাড়া, ভূগী,
পাইলাটি, ইয়ারন ও নারান্দিয়াসহ আশপাশের সাতটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ। নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ওঠার জন্য এটি সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। এছাড়া সড়কের পাশেই রয়েছে চারটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “পাকা করার আগে এই অংশ দিয়েই মাটির রাস্তা ছিল। অনেকেই জমি ছেড়েছেন উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু সামান্য ১০ মিটার জায়গার জন্য পুরো কাজ বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অভিযুক্ত মুমরুজ আলী বলেন, “পাশেই হালটের জায়গা থাকা সত্ত্বেও আমার রেকর্ডকৃত জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল। তাই আমি বাধা দিয়েছি।”
তদারককারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়া জানান, এলজিআরডি অফিসের সার্ভে অনুযায়ী পূর্বের মাটির রাস্তার ওপর দিয়েই কাজ চলছিল। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের কাজে আগে কোনো বাধা ছিল না। বেড প্রস্তুত ও বালু ফিটিংসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে রাস্তায় বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে বাধা দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, জোরপূর্বক বাড়ি ভেঙে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ ও আদালতের সার্ভেয়ার তদন্ত করে রাস্তার কাজ সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক দত্ত বলেন, “গ্রামীণ রাস্তার নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারেই কাজ চলবে। কেউ কোনো অংশে বাধা দিলে সেই অংশ আপাতত বাদ দিয়ে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
পোস্টের শেষে বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
0 মন্তব্যসমূহ