জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? যা জানাল সরকার। - ভোরের সময় অনলাইন জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? যা জানাল সরকার।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds


জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? যা জানাল সরকার।



মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলার অতিক্রম করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মূল্যসীমা নির্ধারণ

এরই অংশ হিসেবে South Korea সরকার প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung এক জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠকে বলেন, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে ভোক্তা ও শিল্পখাতকে রক্ষা করতে দ্রুত এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

সাধারণত দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির দাম ওঠানামা করে এবং সরকার কর সমন্বয় বা ভর্তুকির মাধ্যমে বাজারে প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সরাসরি মূল্যসীমা নির্ধারণকে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশে নজরদারি জোরদার

এদিকে Bangladesh সরকারও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপর রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ফিলিং স্টেশনগুলোর মজুদ, সরবরাহ এবং পরিমাপের সঠিকতা পরীক্ষা করা হয়।

সরকারি তথ্যমতে, রাজধানীর অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ চললেও কয়েকটি পাম্পে সাময়িকভাবে তেলশূন্য অবস্থার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও পরিমাপে অসঙ্গতি পাওয়ায় তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঈদের আগে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই

আসন্ন Eid al-Fitr উপলক্ষে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে কি না—এ প্রশ্নে সড়ক পরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী Sheikh Robiul Alam বলেন, ঈদের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য সংকটের অজুহাতে ঈদযাত্রা ব্যাহত করা বা পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। ঈদকে সামনে রেখে পরিবহন খাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি

দীর্ঘমেয়াদি সংকট এড়াতে Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির ব্যবস্থা চালু করেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী—

  • মোটরসাইকেল: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন

  • ব্যক্তিগত গাড়ি: ১০ লিটার

  • এসইউভি বা মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার

  • পিকআপ বা লোকাল বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল

  • দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার ট্রাক: ২০০–২২০ লিটার

তেল নেওয়ার সময় রসিদ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকারের আশ্বাস

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী Iqbal Hasan Mahmud Tuku বলেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেশনিং চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, আতঙ্কে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মজুদ করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী সোমবার আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সরকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ