পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশে জাহাঙ্গীর স্যারের বিদায় সংবর্ধনা। - ভোরের সময় অনলাইন পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশে জাহাঙ্গীর স্যারের বিদায় সংবর্ধনা।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds


পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশে জাহাঙ্গীর স্যারের বিদায় সংবর্ধনা।

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর)-কে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।


রবিবার (২১ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে শিক্ষা, ক্রীড়া ও স্কাউটিংয়ে তার অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন উপস্থিত বক্তারা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ মেহেদী হাসান ১৯৯৯ সালে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) হিসেবে পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। টানা ২৭ বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩০ মে ছিল তার শেষ কর্মদিবস। পরদিন ৩১ মে থেকে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা ২১ জুন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শুধাংশু শেখর তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম ছিদ্দিকী মামুন

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র সরকার, সাবেক সহকারী শিক্ষক এস এম এনামুল করীম, প্রাণেশ চন্দ্র দাস, শহিদুল ইসলামজাহানারা বেগম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও জাহাঙ্গীর স্যারের সহধর্মিণী সুরাইয়া আক্তার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান খান সেলিম

বক্তারা বলেন, জাহাঙ্গীর স্যার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক, সৎ ও মানবিক ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নন, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার আন্তরিকতা, কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাকে সবার কাছে একজন প্রিয় শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শুধাংশু শেখর তালুকদার বলেন, "জাহাঙ্গীর স্যার একজন সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিদ্যালয়ের ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য এনে দিয়েছেন। স্কাউটিংয়ে তার নেতৃত্ব বিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের অধ্যায় হয়ে থাকবে।"

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম ছিদ্দিকী মামুন বলেন, "তার অবসর বিদ্যালয়ের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি কর্মদক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার কর্মজীবন থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।"

অনুষ্ঠানে আরও বক্তারা বলেন, "জাহাঙ্গীর স্যার ছিলেন মাঠের প্রাণ, শিক্ষার্থীদের সাহস জোগানো একজন অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থার প্রতীক। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও স্কাউটিং কার্যক্রমকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক বিরল।"

তারা আরও বলেন, "বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সাফল্যের পেছনে জাহাঙ্গীর স্যারের অনুপ্রেরণা, কঠোর পরিশ্রম ও সুশিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর।"

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর স্যার একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও স্কাউট নেতা হিসেবেও সুপরিচিত। তার হাত ধরে বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। স্কাউটিংয়ে তার সক্রিয় নেতৃত্ব বিদ্যালয়ের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর) বলেন, "এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল নয়, এটি আমার দ্বিতীয় পরিবার। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ২৭টি বছর আমি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাটিয়েছি। সবসময় চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। অবসরে গেলেও এই বিদ্যালয়, সহকর্মী ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আজীবন আমার হৃদয়ে অম্লান থাকবে।"

বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর স্যারের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, ফুল ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সবাই তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং শান্তিময় ও সুখী অবসর জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানান। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বিদায় জানায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ