পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে পূর্বধলা থানায় মামলা করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার ধলামূলগাঁও গ্রামের দুলাল মিয়া (৫২), তাঁর স্ত্রী হেনা আক্তার (৪৮) এবং ছেলে কাউছার আহমেদ (২২)। তাঁদের মধ্যে দুলাল মিয়া ও কাউছার আহমেদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুলাল মিয়া ও তাঁর ছেলে কাউছার আহমেদ নিজেদের দাবি করা জমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেন সোহেল (৪০), পারভেজ হোসেন রাসেল (৩৬), ইমতিয়াজ মাহমুদ (৩৪), নিয়াজ মাহমুদ (৩০), আবু তালেবসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলার সময় আনোয়ার হোসেন সোহেল ধারালো দা দিয়ে দুলাল মিয়ার মাথায় কোপ দেন। পরে ইমতিয়াজ মাহমুদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। আবু তালেব লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে দুলাল মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে গেলে কাউছার আহমেদের মাথায় নিয়াজ মাহমুদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় চিৎকার শুনে দুলাল মিয়ার স্ত্রী হেনা আক্তার এগিয়ে এলে পারভেজ হোসেন রাসেল শাবল দিয়ে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে প্রথমে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুলাল মিয়া ও কাউছার আহমেদকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার বাদী দিলন মিয়া বলেন, তাঁর বাবা ও ছোট ভাই বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর দাবি, কাউছার আহমেদের মাথার খুলি ফেটে রক্ত জমাট বেঁধেছে। অন্যদিকে দুলাল মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি ডান পায়ের হাঁটুর হাড় ভেঙে গেছে। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার ১ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন সোহেল। তিনি বলেন, ফসল কাটার মৌসুমে তাঁর নিজস্ব জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে আগেও বিরোধ হয়েছিল। পরে পুলিশ ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়। ঘটনার দিন প্রতিপক্ষ তাঁর জমিতে জালা ধান রোপণের চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় উল্টো তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁদের পক্ষের পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ