কাকন হত্যা ও ক্লু-লেস নবজাতক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে দক্ষতার পুরস্কার।
পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি :
ক্লু-লেস নবজাতক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, চাঞ্চল্যকর কাকন মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে টানা তৃতীয়বারের মতো নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণা জেলা পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম তাকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বধলার বহুল আলোচিত কাকন মিয়া হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মামলার অন্যতম আসামি আব্দুর রশিদকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পূর্বধলা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান কাকন মিয়া নারান্দিয়া ইউনিয়নের দাপুনিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দাপুনিয়া এলাকার একটি সড়কে পূর্বশত্রুতার জেরে তার ওপর হামলা চালানো হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত কাকন মিয়ার বোনজামাই মাসুদ আল মামুন বাদী হয়ে আব্দুর রশিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পূর্বধলা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান আব্দুর রশিদ। পুলিশের দাবি, তিনি সিলেট, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান পরিবর্তন করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড পরিবর্তন করায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রায় এক বছর অনুসন্ধানের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজনকে কুমিল্লা থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টানা দুই দিনের অভিযান চালিয়ে গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কে-ব্লকের ২২ নম্বর সড়ক থেকে আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, এর আগে জুন মাসে ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে দক্ষতা এবং দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ভূমিকার জন্য হাবিবুর রহমান জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ক্লু-লেস নবজাতক হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটনের স্বীকৃতিতেও তিনি একই পুরস্কার পান।
এর ফলে জুন, জুলাই ও আগস্ট—টানা তিন মাস নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম।
মাসিক কল্যাণ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রেজওয়ান আহমেদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার, পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, “পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার প্রাপ্তি আমাকে আরও উৎসাহিত করবে। কাকন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটি পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভবিষ্যতেও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৮ মার্চ পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত, রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রেখে জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তার স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।
0 মন্তব্যসমূহ