পরিবেশ রক্ষায় ১০ মিনিটের উদ্যোগ, সবুজায়ন ও সচেতনতার আহ্বান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মাইনোরিটি বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে এবং HWPL (Heavenly Culture, World Peace, Restoration of Light) Global 3 Branch-এর সহযোগিতায় ‘Eco Ten 10 Minutes’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। গাছ অক্সিজেন সরবরাহের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কধুরখীল মারজিন বিহারের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ মাইনোরিটি বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শান্তিদূত ভদন্ত দীপানন্দ ভিক্ষু। এতে অংশ নেন জ্যৈষ্ঠপুরা শাক্যমনি বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জিনানন্দ মহাস্থবির। প্রধান অতিথি ছিলেন ভদন্ত শুভানন্দ মহাস্থবির।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ভদন্ত আনন্দ ভিক্ষু, বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু মাইকেল বড়ুয়া, কধুরখীল জ্ঞানোদয় বিহারের উপদেষ্টা বাবু অর্ধেন্দু বড়ুয়া, কধুরখীল মারজিন বিহার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু উত্তম কুমার বড়ুয়াসহ উপাসক-উপাসিকা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে ভদন্ত দীপানন্দ ভিক্ষু বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ছোট ছোট উদ্যোগ নিতে পারেন। গাছ লাগানো ও পরিচর্যা, আশপাশ পরিষ্কার রাখা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মতো কাজ সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি বলেন, মাত্র ১০ মিনিট সময়কে ছোট মনে হলেও অনেক মানুষ একসঙ্গে ইতিবাচক কাজে অংশ নিলে তা সমাজে অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
ভদন্ত দীপানন্দ ভিক্ষু আরও জানান, ভবিষ্যতে HWPL বাংলাদেশে একটি ‘Eco Project’ পরিচালনার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে আরও ব্যক্তি ও সংগঠনকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শান্তির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শান্তির কাজে আগ্রহী সবাইকে এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজকরা বলেন, ‘Eco Ten 10 Minutes’ কর্মসূচি যেন শুধু একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। পরিবেশ রক্ষা ও শান্তির বার্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকদের বার্তা— “একটি গাছ, একটি প্রাণ—সবুজ পরিবেশ, নিরাপদ ভবিষ্যৎ।”
0 মন্তব্যসমূহ