বরযাত্রী কনের বাড়িতে, বাড়িতে ‘প্রেমিকার’ দাবি; বিয়ে ভেঙে রাতে বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। - ভোরের সময় অনলাইন বরযাত্রী কনের বাড়িতে, বাড়িতে ‘প্রেমিকার’ দাবি; বিয়ে ভেঙে রাতে বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds



বরযাত্রী কনের বাড়িতে, বাড়িতে ‘প্রেমিকার’ দাবি; বিয়ে ভেঙে রাতে বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার।

পূর্বধলায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা—প্রেমের সম্পর্কের দাবিতে নারীর উপস্থিতির পর বিয়ে পণ্ড, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি; তদন্তে পুলিশ



পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় ছেলের বিয়ের আনন্দঘন আয়োজন মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বরযাত্রী কনের বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়িতে এসে এক নারী নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করলে বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়া (২২)-এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবার দুপুর আনুমানিক ১:৩০ মিনিটের দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই নারী উপস্থিত হন। তাঁদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮) এবং অপরজন তাঁর মামাতো বোন মোসাম্মৎ শাহিনুর বেগম (২৮)।

জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রায় ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা একসঙ্গে বসবাসও করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৮ জুলাই তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও হেলাল মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাওয়ায় সেই বিয়ে আর হয়নি। তিনি আরও জানান, তিনি পূর্বে বিবাহিত ছিলেন এবং সেই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। পরে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।

এ ঘটনার খবর কনের বাড়িতে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের অনুষ্ঠান আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে বরযাত্রীরা বাড়িতে ফিরে আসেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া গভীরভাবে মানসিক আঘাত পান। ছেলে বিয়ে করতে যাওয়ার পর বাড়িতে এক নারীর প্রেমের সম্পর্কের দাবি এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে পণ্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এরই জেরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ বাড়ির পূর্ব পাশে সাইদুল ইসলামের পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি আমগাছের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।

পরে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা তাঁকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকে পুলিশ হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছেলের বিয়েকে কেন্দ্র করে যে পরিবারে আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি চলছিল, সেই পরিবারই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নেমে আসে গভীর শোকে। বরযাত্রী কনের বাড়িতে থাকা অবস্থায় বাড়িতে এক নারীর প্রেমের সম্পর্কের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং রাতেই পরিবারের কর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সুরুজ মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ