সরকারি রাস্তাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ; অভিযুক্তের দাবি—নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণ, তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে নিজেই ভেঙে ফেলবেন।
পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় সরকারি রাস্তা দখল, সরকারি গাছ কর্তন এবং সরকারি জমির ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা সদরের পাটবাজার এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা মামুন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে পূর্বধলা গুদাম রোড এলাকার ‘রোজ মেডিক্যাল হল’-এর মালিক মো. শাহিন তালুকদার তৎকালীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে পূর্বধলা মুরগি মহাল-সংলগ্ন সরকারি দুটি গাছ কেটে ফেলেন। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখল করে নিজের বসতবাড়ির দেয়ালের একাংশ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে ভূমি অফিসকে অবহিত করেন। পরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। এ সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং পুলিশের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা অপসারণের উদ্যোগ নিলেও আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার স্বার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এছাড়া একই বিষয়ে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট একটি অভিযোগ দাখিল করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেটির নিষ্পত্তি হয়নি বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারী সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ এবং বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহিন তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করছি। সেখানে ছোট ছোট জিগার গাছ ছিল, সেগুলো কেটেছি। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে আমার নির্মাণাধীন বাড়িটি সরকারি জমির ওপর রয়েছে, তাহলে আমি নিজেই তা ভেঙে ফেলব।”
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগ পত্র



0 মন্তব্যসমূহ