দেওটুকোন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধনা; শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় আপ্লুত, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নবান ও মানবিক মানুষ হওয়ার আহ্বান।
নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্বধলা (নেত্রকোণা): একসময় যে বিদ্যালয়ের বেঞ্চে বসে স্বপ্ন বুনেছিলেন, দীর্ঘদিন পর সেই বিদ্যালয়েই সংসদ সদস্য হিসেবে সংবর্ধিত হলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যালয়ের কৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থী মানসুরা আক্তার। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর উষ্ণ ভালোবাসায় সিক্ত হন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নেত্রকোণার পূর্বধলার দেওটুকোন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থী ও সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিনি বিদ্যালয়ের ২০০৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার। শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা ও আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক অলক চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী নিজেদের স্মৃতিচারণ করেন।
বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু, পূর্বধলা সরকারি কলেজের প্রভাষক আবু হানিফ তালুকদার রাসেল, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আব্দুল গণি তালুকদারের ছেলে সাইদুল ইসলাম তালুকদার, নজরুল ইসলাম তালুকদারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, এই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এটি বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তার এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
সংবর্ধনার জবাবে আবেগঘন বক্তব্যে মানসুরা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজের বিদ্যালয়ে ফিরে তিনি আপ্লুত। শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করে তিনি শিক্ষক ও পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “মানুষের জীবনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান কখনো ভোলার নয়। একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পেছনে শিক্ষক ও পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।”
তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু মেধাবী নয়, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোরও আহ্বান জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠান শেষে দেশাত্মবোধক গান, নৃত্যসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।


0 মন্তব্যসমূহ