পূর্বধলায় গাছ কাটা ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন। - ভোরের সময় অনলাইন পূর্বধলায় গাছ কাটা ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds



পূর্বধলায় গাছ কাটা ও অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন।

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাৎ, গাছ কেটে নেওয়া, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা, ভুয়া হাজিরা দেওয়া এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।



সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে পানিশা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণ করা দুটি বড় লম্বু গাছ প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই প্রধান শিক্ষক কেটে নিয়ে গেছেন। এর আগেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মূল্যবান গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুদান ও সম্পদ বিক্রির অর্থের সঠিক হিসাব রাখা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় দুপুর ১২টা বা ১টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন। কোনো কোনো মাসে মাত্র এক-দুই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেও পরবর্তী সময়ে অনুপস্থিত দিনের হাজিরা পূরণ করার অভিযোগও করেন তারা।

বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা ও যথাযথ তদারকির অভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় দিন দিন শিক্ষার্থী সংখ্যা কমছে। অন্য বিদ্যালয়ে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিতে গেলে তাদের ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়টি একসময় আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও বর্তমানে নিজ গ্রামের শিক্ষার্থীরাও এখানে ভর্তি হতে আগ্রহী নয়। বিদ্যালয়ে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করা হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযোগকারীরা বিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও নিরীক্ষা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে দ্রুত স্বাভাবিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন আনোয়ার হোসেন, বেলায়েত সরকার, মো. মাসুদ রানা, কামাল সরকারসহ অনেকে।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পানিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত রমজান মাসে ঝড়ে বিদ্যালয়ের দুটি গাছ উপড়ে অফিস কক্ষের টিনের চালের ওপর পড়ে যায়। বিষয়টি তৎকালীন ইউএনও আনিছুর রহমানকে জানালে তিনি গাছ দুটি কেটে রাখার পরামর্শ দেন। পরে বিদ্যালয়ে কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ১০ আগস্ট গাছ দুটি কাটা হয়। বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় ফার্নিচার না থাকায় সবার পরামর্শক্রমে গাছের কাঠ দিয়ে ফার্নিচার তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়ে কেরানি, আইটি শিক্ষকসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের তিনজন শিক্ষক নেই। এছাড়া বিদ্যালয়ে কোনো ল্যাপটপও নেই। ফলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজসহ অধিকাংশ দায়িত্ব আমাকে একাই করতে হয়। এসব কাজের কারণে অনেক সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ