পূর্বধলায় মসজিদের দেয়াল ভাঙার অভিযোগ, পুনর্নির্মাণে বাধা ও হুমকির দাবি। - ভোরের সময় অনলাইন পূর্বধলায় মসজিদের দেয়াল ভাঙার অভিযোগ, পুনর্নির্মাণে বাধা ও হুমকির দাবি।

বেকিং নিউজ

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds



পূর্বধলায় মসজিদের দেয়াল ভাঙার অভিযোগ, পুনর্নির্মাণে বাধা ও হুমকির দাবি।

পূর্বধলা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি জামে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা, পুনর্নির্মাণে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির সভাপতি পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করা হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাজুনিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ (৬২) বাদী হয়ে পাজুনিয়া গ্রামের ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভাঙা, পুনর্নির্মাণে বাধা এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলায় মসজিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায়ও অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে। মসজিদের পরিবেশ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এতে উপস্থিত হননি। পরে গত ৪ জুলাই পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

অন্যদিকে, থানায় দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, মসজিদের পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেঁষে অভিযুক্তদের চলাচলের একটি রাস্তা রয়েছে। যাতায়াতের সুবিধার কথা বলে গত ২০ জুন অভিযুক্তরা মসজিদের দেয়াল ভেঙে দেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েক দফা সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হননি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব অর্থায়নে সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে এসে কাজে বাধা দেন এবং দেয়াল নির্মাণ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন পাজুনিয়া গ্রামের হাবুল মিয়া (৪৫), শাহিন (৩০), জুয়েল মিয়া (৪০), মোস্তফা (৫০), সাহেব আলী (৭০) ও নাজমিন (৩৫)।

তবে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া। তাঁর দাবি, মসজিদের দেয়াল নির্মাণের জায়গাটি সরকারি হালটের অংশ। সেখানে প্রায় ২৩ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে, যা দিয়ে কয়েকটি পরিবারের লোকজন ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে। যানবাহন চলাচলের জন্য কয়েক ফুট রাস্তা রেখে দেয়াল নির্মাণের কথা বলা হলেও পুরো রাস্তা বন্ধ করে মসজিদের নামে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বাধা দেওয়ার সময় সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও কাউকে মারধর বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মসজিদ কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মসজিদ রক্ষা ও আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ